সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর একাধিক যৌন নিপীড়নের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও একই ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পারিবারিক পরিবেশ এবং শ্রমনির্ভর অনানুষ্ঠানিক কর্মস্থলগুলোতেও।
শিশু নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার মতো ঘটনাগুলো বেশ উদ্বেগজনক। আলোকিত কোরআন হিফজ মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে গত ২১ মে মো. আব্দুল্লাহ নামের ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, তাঁর পায়ুপথে যৌনাচারের অস্বাভাবিক চিহ্ন ছিল। এমন সব ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে, যেখানে মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মচারী ও প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের দ্বারা নাবালক শিশুরা যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।
শিশু অধিকারকর্মীদের মতে, বাস্তব ঘটনার তুলনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব ঘটনার সংখ্যা অনেক কম। ভয়, সামাজিক লজ্জা এবং পারিবারিক চাপ—এই তিনটি কারণে বহু ভুক্তভোগী নীরব থাকে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় বেশ স্পষ্ট; মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের পরিসংখ্যান বেশ ঊর্ধ্বমুখী। সেখানে নাবালক শিশুরা প্রতিনিয়ত সমলিঙ্গের আলেম বা ধর্মীয় শিক্ষকদের যৌন লালসার শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমলিঙ্গের প্রতি যৌন আকর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ৩৭৭ ধারায় এটিকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এ ধরনের আইন যদিও বর্তমান বাস্তবতায় স্পষ্ট মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
এলজিবিটিকিউ, অর্থাৎ সমকামী, উভকামী, গে ও লেসবিয়ান ব্যক্তিদের নিজস্ব যৌন পরিচয় নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। নিজের পরিচয় নির্ধারণের স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, যৌন পরিচয় এবং স্বাধীনভাবে আত্মপ্রকাশের অধিকারও তাদের আছে। দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এ অধিকারের পূর্ণ চর্চা করতে পারেন। এটি কোনোভাবেই অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্ক সমলিঙ্গের শিশুদের প্রতি যে ধরনের যৌন নিপীড়ন করা হয়, তা অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানি এবং যৌন বিকৃতির শিকার হওয়া এসব মাদ্রাসা বন্ধের উদ্যোগ বেশ জরুরি। শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের নামে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করতে চাওয়া এসব মাদ্রাসার হুজুর ও ধর্মীয় আলেমদের বড় একটি অংশ মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, এবং তাদের দ্বারাই এসব যৌন নিপীড়নের ঘটনা সংঘটিত হয়। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়ায় এসব যৌন নির্যাতন ও বলাৎকারের বেশিরভাগ ঘটনাই শুধুমাত্র ধর্মের দোহাই দিয়ে অপ্রকাশিত থেকে যায়।
