Posted on: জুন ১১, ২০২৬ Posted by: মোঃ দিদার হুসাইন আরিফ Comments:

বাংলাদেশে এলজিবিটি অধিকার, আইন এবং ভ্রমণ–নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় দীর্ঘদিনের। আইনগত বাধ্যবাধকতা, ধর্মভিত্তিক রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে উগ্রপন্থা, চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর পদচারণা অবারিত। নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে তাই সংখ্যালঘু এ গোষ্ঠীর নিজস্ব যৌন পরিচয় প্রকাশের বাস্তবতা বেশ কঠিন।

বাংলাদেশের আইন দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী সমলিঙ্গ সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। পুরোপুরি সংস্কারবিহীন এ আইন এ সম্প্রদায়ের মানবাধিকারের প্রশ্নে তাই এক ধরনের অবজ্ঞা তৈরি করে। একই সাথে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের জীবনধারণের ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলে।

কিন্তু ভালোবাসা কোনো অপরাধ নয়। মানুষ গে, লেসবিয়ান, সমকামী, উভকামী হতে পারে। রূপান্তরিত মানুষও হতে পারে। যৌন পরিচয় যে কোনো মানুষের নিজস্ব অধিকার। কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্ম, ইসলামের দোহাই দিয়ে এ ধরনের অধিকার খর্ব করা এক ধরনের মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

আর শুধুমাত্র ইসলাম কারও অধিকারকে বিপন্ন করতে পারে না। ইসলাম ধর্মের প্রচারক নবী মুহাম্মদ স্বয়ং নিজেই ছিলেন যৌনাচারী। যুদ্ধে বন্দিনী ও দাসীদের সাথে গণিমতের মাল হিসেবে মুহাম্মদ ও তাঁর সাহাবীরা অবাধে সহবাসে লিপ্ত হয়েছে।

এলজিবিটি বিষয়ক আলোচনা এবং অধিকারকর্মীদের কাজকে চ্যালেঞ্জে ফেলে সামাজিক রীতিনীতি ও ধর্মীয় বেড়াজাল। একান্নবর্তী সমাজব্যবস্থায় বিভিন্ন সময়ে কওমি মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তথাকথিত ধর্মীয় আলেমদের শিশুদের উপর যৌন নিপীড়ন, বলাৎকারের মতো গুরুতর অভিযোগের সত্যতা উঠে এলেও শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের দোহাই—অর্থাৎ আলেম এমন পরিচয়ের কারণে তাদের অনেকটা বিনাবিচারেই ছেড়ে দেওয়া হয়।

Leave a Comment