গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ধর্মীয়, রাজনৈতিক সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবর গভীরভাবে উদ্বেগজনক। হিন্দু, আহমদিয়া, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল নাগরিকের জীবন, সম্পদ, উপাসনালয় ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রতিশোধ কিংবা ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে নির্যাতনের শিকার হতে পারে না।
কিন্তু আমরা কী দেখছি?
রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কার্যত সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। শান্তির ধর্ম ইসলামের ধর্মীয় অপব্যাখ্যার ফাঁদে এ দেশের একটি শ্রেণী সংঘাত, সহিংসতা, উগ্রবাদ, চরমপন্থা এবং মৌলবাদী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হচ্ছে। যুবসমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ায় ইসলাম সম্পর্কে মানুষের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে।
ভিন্ন মতাদর্শ, ভিন্ন ধর্ম কিংবা কট্টরপন্থায় যুক্ত হয়ে অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করে কি বেহেশতে যাওয়া যায়?
সূরা আল-মায়িদাহ ৫:৩২ আয়াতে আল্লাহ বলেন: “যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করল—যদি না সে হত্যার বদলে হত্যা করে কিংবা পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে—তবে সে যেন সমগ্র মানবজাতিকেই হত্যা করল।”
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা, উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ ও সহিংসতা ইসলাম কখনো সমর্থন করে না।
আমি একজন সাধারণ মুসলমান হিসেবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ইসলাম ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মানব মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা দেয়। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সকল ধর্ম ও মতের, সকল লিঙ্গের মানুষ সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে।