এই দেশকে কোনো চরমপন্থা বা মৌলবাদের অভয়ারণ্য যেন কোনো দিন পরিণত হতে না হয়—সেটিও আমাদের প্রত্যাশা ও লক্ষ্য।
এটি মুক্তমত ও প্রগতিশীল সকল মানুষের কাছে একটি নতুন বাংলাদেশের জন্য আশার আলো দেখিয়েছিল। একজন সাধারণ মুসলমান হিসেবে এ বিষয়টি আমাকেও আশান্বিত করেছিল; যারা ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা দেয়, ইসলামকে উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে কলুষিত করছে, তাদের বিরুদ্ধে আগামীতে তারেক রহমান সরকার গঠন করতে পারলে কঠোর উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু দেশ কোন পথে এগোচ্ছে?
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দেখা গেল, জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিশের মতো মৌলবাদী এবং উগ্রপন্থার একদল বীভৎস মস্তিষ্কের তালেবান সংঘবদ্ধভাবে জাতীয় সংসদে প্রবেশ করল। দেশের সাধারণ মুসলমানদের অনেকেই না বুঝেই ধর্মীয় আবেগে তাড়িত হয়ে এদের ভোট প্রদান করলেন। এর ফলে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়। স্বয়ং তারেক রহমান এ নপুংসকদের অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমানে সমঝোতার রাজনীতি করছেন। এমনকি তথাকথিত তরুণদের রাজনৈতিক সংগঠন এনসিপিও এই মৌলবাদীদের সঙ্গে একীভূত হয়ে গেছে। কিন্তু এনসিপিসহ সে সময়কার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যেই অবস্থান করে নিয়েছিল জঙ্গিবাদের নির্যাস থেকে উৎপাদিত একটি পক্ষ।
৫ আগস্টের পর একটি মৌলবাদী গোষ্ঠী ইসলামের নাম ব্যবহার করে সারা দেশে একযোগে চলে নারকীয় তাণ্ডব। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় শিক্ষার্থীদের তৈরি কিছু দেয়ালচিত্র, গ্রাফিতি ও সাংস্কৃতিক শিল্পকর্ম ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। সেখানে রং ঢেলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে দেয়ালচিত্র ও গ্রাফিতি এঁকেছিলেন, যেখানে মুক্তচিন্তা, অসাম্প্রদায়িকতা ও বাঙালি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যভিত্তিক কিছু শিল্পকর্ম স্থান করে নিয়েছিল।
এ ছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, দোকান ও মন্দিরে হামলা; ভাস্কর্য ও স্মারক ভাঙচুর; ২০২৪ সালের অক্টোরের এক রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত রাজু ভাস্কর্যের একটি নারী অবয়বের মাথায় কালো কাপড় জড়িয়ে দেওয়া—যেখানে প্রত্যক্ষদর্শীরা কয়েকজন সাদা পাগড়ি ও লম্বা জোব্বা পরিহিত মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে দেখতে পান; পীরের মাজার ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনায় ভাঙচুর; আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলাসহ এভাবে সারা দেশে একযোগে উগ্রবাদী নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এমন সবকিছুই নতুনভাবে উদ্বেগ তৈরি করে।
এরা এভাবেই ভীতির পরিবেশ তৈরি করে প্রগতিশীল ও মুক্তমতের মানুষদের স্তব্ধ করে দিতে চায়। ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী একজন সাধারন মুসলমান হিসেবে এমন কার্যক্রমকে আমি কখনোই সমর্থন করি না। এ ধরণেনে কর্মকাণ্ড সমাজে ভিন্ন মত, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের সহবস্থান ভূলুণ্ঠিত করে—এ বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে ভাববার বিষয়।
কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা কী দেখছি?
[প্রিয় পাঠক, এর পরের চিত্রটি আরও গভীরভাবে বোঝার জন্য চোখ রাখুন পর্ব–২-এ।]