আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির পর ভেবেছিলাম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পাবে মানুষ। হায়! সে কী দুরাশা!

1

আওয়ামী লীগের যখন পতন হলো, তখন দূর প্রবাস থেকে আমিও অন্যদের মতোই আনন্দিত হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, অবশেষে মানুষ স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারবে — ব্যক্তি স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মতাদর্শিক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই — জুলাই ২০২৪ পরবর্তীতে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে সে স্বাধীনতা সুনির্দিষ্ট কিছু মানুষ এবং গোষ্ঠীর জন্য, সবার জন্য নয়। এই স্বাধীনতা মৌলবাদ প্রতিষ্ঠা করবার স্বাধীনতা, বাংলাদেশের কর্মজীবী নারীদের কর্মচ্যুত করবার স্বাধীনতা, নারীদের নেতৃত্ব-পযর়্ায়ে বরদাশত না করবার স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করবার স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশকে নতুন ইরান বা আফগানিস্তান করবার স্বাধীনতা।

এই নতুন স্বাধীনতা যদি আপনি না চান, আপনাকে ধর্ম অবমাননার মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হবে। আমার আপন দুই ভাইকে এইভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। কেন? কারণ আমরা তথাকথিত মৌলবাদী উগ্রবাদী রাষ্ট্র চাই না। এ কারণেই। আমরা সংখ্যালঘুদের নির্যাতন বা মৃত্যু চাই না। আমরা চাই সমকামী, হিন্দু, নাস্তিক — এরা সাধারণভাবে বেঁচে যেন থাকতে পারে, উন্নত বিশ্বে যেমন পারে। কিন্তু না, ২০২৪-এর ওই যোদ্ধারা তা হতে দেবেন না।

এই স্বাধীনতার সঙ্গে পরাধীনতার কোনো পার্থক্য নেই।

[টিকা: আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির পর ভেবেছিলাম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পাবে মানুষ। হায়! সে কী দুরাশা! শিরোনামে লিখাটি “এথিস্ট নোট” ব্লগে ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ প্রকাশিত হয়। বর্তমানে লিখাটি ব্যক্তিগত ব্লগে পুনঃপ্রকাশিত করা হলো]

দিদার হুসাইন আরিফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *